দাবা বোর্ডে হোজ্জা নাসিরুদ্দীনের গাধা !

দাবা বোর্ডে হোজ্জা নাসিরুদ্দীনের গাধা !
মোরসালিন আহমেদ

অনেক দিন আগে একদা হোজ্জা নাসিরুদ্দীন তাঁর প্রিয় গাধাটিতে চড়ে রাজধানী শহরে এলেন কিছু ব্যবসাপাতি করার জন্য। বাণিজ্য এলাকায় একটি গাছের সাথে গাধাটিকে বেঁধে তিনি তাঁর কাজে চলে গেলেন। এদিকে গাধাটির একই জায়গায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বিরক্তি ধরে গেলো। সে দাঁত দিয়ে কামড়ে বাঁধনের দড়িটা ছিড়ে ফেললো।

তারপর সারা শহর মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াতে লাগলো। এক সময় তার যখন খুব ক্ষুধা পেলো তখন দেখলো রাস্তার পাশে একটা লোক ভাড়ে করে চমৎকার সুস্বাদু বার্লি বিক্রি করছে। লোভ সামলাতে না পেরে হোজ্জার গাধাটি বার্লি খাওয়ার জন্য যেই ভাড়ে মুখ বাড়িয়ে দিলো তখনই বিক্রেতা ব্যাটা একটা লাঠি নিয়ে তাকে তেড়ে এলো। বাধ্য হয়ে সে তখন সেখান থেকে চলে এলো। তারপর আবার এ রাস্তা ও রাস্তা চলতে চলতে একটি বাগানের কাছে এসে দেখলো এক সহিস চোখ আধবোজা করে ঘুমিয়ে আছে। তার পাশে বালতি ভর্তি বার্লি।

গাধার মনে হলো সহিস ঘুমিয়েই গেছে। তাই সরু একটি গেট দিয়ে গাধাটা চুপে চুপে বাগানে ঢুকে পড়লো এবং বার্লি খাওয়া শুরু করলো। (1. Nd2+)। এই সময় দিবানিদ্রা শেষ করে হাঁটতে হাঁটতে বাগানের ধনাঢ্য মালিক শাহ সাহেব এসে হাজির। কিন্ত শাহকে দেখা মাত্র গাধা ভয়ে অস্থির হয়ে উঠলো এবং চীৎকার করতে করতে সরু গেট দিয়ে বের হয়ে যাবার চেষ্টা করলো। কিন্ত হোজ্জা নাসিরুদ্দীনের গাধা বলে সে যতই চালাক হোক না কেন ভীত অবস্থায় অত সরু গেট দিয়ে তার পক্ষে বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব হলো না। অন্যদিকে শাহ সাহেব অধিক ধন সম্পদের মালিক হলেও সে তুলনায় তত সাহসী ছিলেন না।

গাধাটাকে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে দেখে তাঁর ধারণা হলো গাধাটা নিশ্চয় পাগল হয়ে গেছে। তাই পাগলা গাধার ভয়ে তিনি বাগানের গেট দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেন (1…. Kb2+)। তিনি তখন চীৎকার করে বলতে লাগলেন, পাগলা গাধা! পাগলা গাধা! কে কোথায় আছে আমাকে বাঁচাও। শাহ সাহেবের আর্ত চীৎকারে সহিস জেগে উঠে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লো, কী করবে ভেবে পেলো না। বাগানের মধ্যে গাধা ও শাহ সাহেব তখন ভয়ে পরস্পর যেভাবে ছুটাছুটি করছেন দাবার ভাষায় তা এ রকম।

2. NC4 – Kb3
3. Na5 – Kb4+
4. NC6+

বলাবাহুল্য হোজ্জা নাসিরুদ্দীন ইতিমধ্যে গাধাটাকে খুঁজতে খুঁজতে এখানে এসে না পড়লে কতক্ষণ গাধা ও শাহ সাহেব এভাবে ছুটাছুটি করতেন তা বলা যায় না। নাসিরুদ্দীন গাধাটাকে ধরে ফেললেন এবং তাকে নিয়ে বাগান থেকে বের হয়ে গেলেন। আবার পুরানো জায়গায় গিয়ে তিনি গাধাটাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখলেন।

তবে তিনি গাধাকে এবার বার্লি কিনে দিলেন। গাধা বহু আকাঙ্ক্ষি সুস্বাদু বার্লি পেয়ে অত্যন্ত তৃপ্তি সহকারে চিবিয়ে চিবিয়ে খেতে থাকলো। ওদিকে সবই ঠিকঠাক চলছিলো কেবল শাহ সাহেব ওই ঘটনার পর থেকে ইনসমনিয়ায় আক্রান্ত হলেন। রাত বয়ে যায়, কিন্ত তাঁর আর ঘুম আসে না।

সূত্র : গল্পে গল্পে দাবা খেলাচেস ফর ফান বই থেকে অনুবাদকৃত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *