গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান আর নেই। সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ৫ জুলাই শুক্রবার বিকেলে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। তিনি স্ত্রী, একমাত্র পুত্র, মা, দুই ভাই এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমের নামাজে জানাযা ৬ জুলাই শনিবার সকাল ১১টায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরাতন ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। বাদ যোহর তাকে মোহাম্মদপুর স্থানীয় কবর স্থানে দাফন করা হবে।
গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের মৃত্যুতে ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বাংলাদেশ চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ সাহেদ রেজা, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, চেসবিডি.কমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আরিফুর রহমান, উত্তরা সেন্ট্রাল চেস ক্লাবের সভাপতি রাহাত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা দাবা খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম, বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন, গোল্ডেন স্পোর্টিং ক্লাব, বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠক, সংগঠন ও দাবা খেলোয়াড়বৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনে ৫ জুলাই শুক্রবার জাতীয় দাবা প্রতিযোগিতার ১২তম রাউন্ডে গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীবের বিপক্ষে ভাল পজিশনে খেলছিলেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। দাবা বোর্ডে খেলা চলাকালীন হঠাৎ করে জিয়া মাথা ঘুরে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বারডেমে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মারা গেছেন জিয়া। সেই খবরে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লে ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের দাবাই ছিল ধ্যানজ্ঞান। জীবনের শেষ মুহূর্তটাও কাটালেন দাবার বোর্ডেই। খেলার মধ্যে ক্রীড়াবিদদের মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। তবে বাংলাদেশে এমন ঘটনা এটাই প্রথম।
