আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে আগামীকাল [২ আগস্ট] শনিবার থেকে ‘ওয়ার্ল্ড স্কুল টিম চ্যাম্পিয়নশিপ’ শুরু হচ্ছে। বিশ্বের ৪৯টি দেশের ৫৫টি স্কুল এতে অংশ নিচ্ছে। ৮ রাউন্ড সুইস লিগ পদ্ধতির এ আসর ৭ আগস্ট শেষ হবে। চ্যাম্পিয়নশিপটি ওয়াশিংটন ডিসির কেন্দ্রস্থল থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে এপিস্কোপাল হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হবে।
আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে কাল থেকে ‘ওয়ার্ল্ড স্কুল টিম চ্যাম্পিয়নশিপ’ বোর্ডে গড়াতে যাচ্ছে। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্যি, বাংলাদেশ থেকে কোন স্কুল টিম অংশ নিচ্ছে না। অথচ এই ‘ওয়ার্ল্ড স্কুল টিম চ্যাম্পিয়নশিপ’ সামনে রেখে ‘বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন’ কতই ঢাক-ঢোল বাজিয়েছিল। দেশব্যাপী স্কুলগুলোকে স্বপ্ন দেখিয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল ‘জাতীয় স্কুল দলগত দাবা প্রতিযোগিতা’ যে স্কুল চ্যাম্পিয়ন হবে তাদের ওয়ার্ল্ড স্কুল টিম চ্যাম্পিয়নশিপে সুযোগ করে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা গেল ফেডারেশন কর্মকর্তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয় স্কুল দলগত দাবা প্রতিযোগিতা যথাযথ নিয়ম মেনে করা হয়নি বলে চ্যাম্পিয়ন সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মালিবাগ শাখা ফেডারেশনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করলেও আয়োজকরা ৪৯টি দেশের ৫৫টি স্কুলের মধ্যে রাখেনি বাংলাদেশকে। অপর এক প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, এরপরও আমাদের ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে খেলার একটি সুযোগ ছিল। কিন্তু এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার অবহেলার কারণে শেষ মুহূর্তে টিম পাঠানো যায়নি।
ওয়ার্ল্ড স্কুল টিম চ্যাম্পিয়নশিপের এটি দ্বিতীয় আসর। এর আগে ২০২৩ সালে কাজাখস্তানে প্রথম ওয়ার্ল্ড স্কুল টিম চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্ল্ড স্কুল টিম চ্যাম্পিয়নশিপ কেবল একটি টুর্নামেন্টই নয়, এরচেয়েও অনেক বেশি কিছু। বিশেষ করে এটি বুদ্ধিমত্তা, ঐক্য এবং তরুণ মনের অসীম সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন করেছে। বিশ্বজুড়ে দলগুলোকে একত্রিত করে, এই ইভেন্টটি দাবা কীভাবে সীমানা এবং সংস্কৃতি অতিক্রম করে তার একটি শক্তিশালী উদাহরণও বটে। এটি সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, স্থিতিস্থাপকতা এবং মনোযোগ বিকাশে সহায়তা করে।
তবে বর্তমান অ্যাডহক কমিটির কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফিদেমাস্টার নাইম হক এক স্ট্যাটাসে নানারকম অভিযোগ, অনুযোগ ও অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। উদীয়মান এ দাবাড়ু উল্লেখ করেছেন, বর্তমান কমিটি আসার আগে আমরা দেখেছি, মার্কস অ্যাক্টিভ নামক একটি জাতীয় স্কুল দাবা দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জেলা পর্যায়ে দাবাড়ুদের থাকা, খাওয়া, যাতায়াত খরচ পেয়েছিল। সেই সঙ্গে প্রতিটি ধাপে ধাপে ট্রফিসহ পুরস্কারও ছিল। এমন কি, ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন দল ১০ লক্ষ টাকা প্রাইজমানি পেয়েছিল। শুধু তাই নয়, চ্যাম্পিয়ন দলকে কোচসহ ওয়ার্ল্ড স্কুল দাবা প্রতিযোগিতায় পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল।
অথচ এবার সেইরকম কিছুই হয়নি। খুবই দায়সারাভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছিল। দাবাড়ুরা যাতায়াত ভাড়া তো দূরে থাক, চ্যাম্পিয়ন ট্রফি পর্যন্ত পাননি। শুধু তাই নয়, ন্যাশনাল ইয়ুথ চেস চ্যাম্পিয়নশিপের দলগত দাবায় কোন পুরস্কার দেওয়া হয়নি। একটা ১০০ টাকার মেডেল পর্যন্ত কেনার সামর্থ কি ফেডারেশনের নেই? এভাবে খুদে দাবাড়ুদের বারবার হতাশ করার অধিকার ফেডারেশনের আছে কি? এমনটিই যদি হয়, তাহলে কিভাবে এগোবে আমাদের দাবা?
