জাতীয় পর্যায় আলো ছড়াচ্ছেন চট্টলার লুবাবা

মোরসালিন আহমেদ (সৌজন্যে : পাক্ষিক ক্রীড়াজগত, ১৬ আগস্ট ২০২৩)

চৌষট্টি খোপের দাবার জমিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় এক সময় চট্টলার ইয়াসমিন বেগম ও তনিমা পারভীন আলো ছড়িয়েছেন। এবার তাদের উত্তরসূরী হয়ে আলো ছড়াতে শুরু করেছেন উমনিয়া বিনতে ইউসুফ লুবাবা। বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এ ছাত্রী ইতোমধ্যে জেলা পর্যায় তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব মেলে ধরে পরপর দু’বার চট্টগ্রাম জেলা নারী দাবায় শিরোপা জয় করেছেন। এমন কি, জাতীয় পর্যায় এ বছর শেখ কামাল বাংলাদেশ যুব গেমসে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। শুধু তাই নয়, এশিয়ান জোন ৩.২ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে এ বছর চমৎকার নৈপুন্যে দেখিয়ে ফিদে থেকে ‘নারী ক্যান্ডিডেটমাস্টার খেতাব’ অর্জন করেছেন। অনেকটা নিজ প্রচেষ্টায় লুবাবা একা একা প্র্যাকটিস করে একের পর এক চমক দেখিয়ে চলেছেন। ভবিষৎতে ভাল ট্রেনিং ও দেশ-বিদেশে বড় বড় টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পেলে হয়তো এই লুবাবাই হতে পারেন আগামী দিনের গ্র্যান্ডমাস্টার কিংবা দেশসেরা তারকা।

চট্টলার এ প্রতিভা বলেন, আমরা চট্টগ্রাম থাকি তাই ঢাকার মতো খুব একটা উন্নত কোচিং পাই না। মাঝে শাকিল (আন্তর্জাতিকমাস্টার আবু সুফিয়ান শাকিল) স্যারের কাছে অনলাইনে ট্রেনিং নিয়েছিলাম। এর আগে দাবাটা যখন একটু আর্ধটু শিখছিলাম তখন তনিমা (নারী ফিদেমাস্টার তনিমা পারভীন) আপুর কাছে গিয়ে শিখতাম। এছাড়া ফিদেমাস্টার আবদুল মালেক, আহমেদ মজুমদার ও রাকিব সাচ্চু- উনারাও শেখার ব্যাপারে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। তবে লুবাবার ব্যক্তিগত কোনো কোচ না থাকায় তিনি দাবা বোর্ডে কোনো ওপেনিং কিংবা কোনো ডিফেন্স বুঝতে অসুবিধা হলে তা অনলাইনে দেখে নেন।

এদিকে দাবার বাইরে লুবাবা উপস্থিত বক্তৃতা ভাল পারেন। এ নিয়ে স্কুলে তাঁর বেশ সুনাম রয়েছে। শুধু তাই নয়, আঁকাআঁকির হাতটাও দারুণ। চমৎকার চমৎকার ড্রয়িং করতে পারেন। এমন কি সময় পেলে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন খেলেন। লুবাবা এক প্রশ্নে বলেন, জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্ট ছাড়া ঢাকায় খুব একটা খেলা হয় না। কেননা ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত ভাড়া, ঢাকায় থাকা-খাওয়া, হোটেল ভাড়া অনেক খরচ। এক্ষেত্রে একটা স্পন্সর পেলে ভাল হতো, তাহলে আমি আরো বেশি ইমপ্রুভ করতে পারতাম।

পরিবারে তিন বোনের মধ্যে লুবাবা মেঝো। বাসায় বড় বোনের (তাজকিয়া বিনতে ইউসুফ) কাছে তাঁর দাবায় হাতে খড়ি হয়। সেই থেকে শুরু। এরপর ২০১৮ সালে তৃণমূল পর্যায় বিশেষ দাবা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায় টুর্নামেন্ট খেলা শুরু করেন। একই বছর ভারতের কলকাতায় টেলিগ্রাফ স্কুল টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে লুবাবা আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রাখেন।

লুবাবা ২০ বারের জাতীয় নারী দাবা চ্যাম্পিয়ন নারী আন্তর্জাতিকমাস্টার রানী হামিদকে হারানোর কৃতিত্ব রয়েছে। এছাড়া বর্তমান জাতীয় নারী দাবা চ্যাম্পিয়ন নারী ফিদেমাস্টার নোশিন আঞ্জুম, সাবেক চ্যাম্পিয়ন দুই নারী ফিদেমাস্টার তনিমা পারভীন ও নাজরানা খান ইভা এবং নারী ক্যান্ডিডেটমাস্টার জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে ড্র করার কৃতিত্ব দেখান। আত্মপ্রত্যয়ী লুবাবার স্বপ্ন গ্র্যান্ডমাস্টার। বন্ধুর এ পথ পাড়ি দিতে লুবাবা দাবা বোর্ডে প্রতিনিয়ত কঠোর অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এক নজরে…

নাম : উমনিয়া বিনতে ইউসুফ লুবাবা

ডাক নাম : লুবাবা

পিতা : মোহাম্মদ ইউসুফ

মাতা : খাদিজাতুল কুবরা

জন্ম তারিখ : ১১ মার্চ, ২০০৭

জন্মস্থান : চট্টগ্রাম

ভাই-বোন : তিন বোন (মেঝো)

উচ্চতা : ৫ ফুট ১ ইঞ্চি

ওজন : ৪০ কেজি

পরিচিতি : দাবা খেলোয়াড়

খেলা শুরু : ছোট্টবেলা থেকে

জাতীয় পর্যায় : ২০১৮ সাল থেকে

আন্তর্জাতিক পর্যায় : ২০১৮ সাল থেকে

প্রিয় কোচ : আবু সুফিয়ান শাকিল

প্রিয় খেলোয়াড় : ডিং লিরেন

যাঁকে অনুসরণ করেন : আনাতোলি কারপভ

অন্য প্রিয় খেলা : ফুটবল, ব্যাডমিন্টন

প্রিয় শখ : গান শোনা

প্রিয় রঙ : সাদা, কালো

পছন্দ : পড়াশোনা

অপছন্দ : বেশি কথা বলা

আদর্শ : বাবা-মা

প্রিয় ওপেনিং : রুই লোপেজ

প্রিয় ডিফেন্স : নিমজো ইন্ডিয়ান ডিফেন্স

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য : গ্র্যান্ডমাস্টার

বিদেশ সফর : ভারত ও আজারবাইজান

জেলা পর্যায় সাফল্য : চট্টগ্রাম জেলা নারী দাবায় ২০২২ ও ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন।

জাতীয় পর্যায় সাফল্য : শেখ কামাল বাংলাদেশ যুব গেমসে ২০১৮ সালে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ। ২০২৩ সালে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক।

আন্তর্জাতিক পর্যায় সাফল্য : ২০২৩ সালে এশিয়ান জোন ৩.২ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে নারী ক্যান্ডিডেটমাস্টার খেতাব অর্জন।